জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ টাকা
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনো অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক এবং জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশের অধিকাংশ ভোটারের কাছে উন্নয়ন বলতে এখনো দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পই প্রধান সূচক। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান যুক্ত থাকায় ভোটারদের কাছে সেগুলো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিপিডির জরিপে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে এই ধারণা আরও বেশি প্রবল।
ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন বিষয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উন্নয়ন ধারণা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত, তবে সামগ্রিকভাবে ভোটারদের চিন্তা এখনো অবকাঠামোকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব- এমন আশাবাদী ধারণা পোষণ করেন ৯৫ শতাংশ ভোটার। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ঠেলে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশ রক্ষার উপায় হিসেবে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীরাও প্রায় একই ধরনের সমাধানের কথা বলেছেন। গবেষকদের মতে, ভোটাররা যেসব উদ্যোগ ব্যক্তিগতভাবে সহজে নিতে পারেন, সেগুলোকেই পরিবেশ রক্ষার মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জানেন- এমন ভোটারের হার ৪৭ শতাংশ, আর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪২ শতাংশ। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভোটার ও প্রার্থীরা পরিবেশ ও অর্থনীতির তুলনায় কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের কাছে দারিদ্র্য, আয় ও কর্মসংস্থানের চাপ এতটাই প্রবল যে সামাজিক বিষয়গুলো অনেক সময় গৌণ হয়ে উঠছে। সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের প্রধান অগ্রাধিকার দুটি বিষয় হলো- স্বাস্থ্য ও শিক্ষা।
জরিপে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার ৪৫০ জন নির্বাচন প্রার্থী, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে পরিবেশ, সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন- এই তিন স্তম্ভে ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সিপিডির মতে, একটি বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ এবং তাদের সমর্থক ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তা না হলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রশ্ন ওঠার আশঙ্কা থাকবে। সংস্থাটি আরও জানায়, নির্বাচন কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের প্রতিফলন- আর রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার মূল শর্ত।