জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ টাকা
১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো কোনো আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে নারী নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের একটি সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। বক্তৃতা শুনে উপস্থিত সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ঢাকা ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। এ আলোচনা সভা নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন জাইমা রহমান।
স্ট্যাটাসে জাইমা রহমান লেখেন, গতকালের আয়োজনটি তার কাছে মনে হয়েছে “অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছুর শুরু”- একটি এমন ভবিষ্যৎ, যেখানে বাংলাদেশের গ্রাম, মফস্বল কিংবা শহরের নারীরা তাদের পটভূমি, মতাদর্শ বা প্রজন্ম নির্বিশেষে কেবল অন্তর্ভুক্তই হবেন না, বরং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতেও তাদের ওপর আস্থা রাখা হবে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের আরও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, যেখান থেকে তিনি শিখতে পারবেন এবং নারীদের অধিকারের পক্ষে আরও কার্যকরভাবে কথা বলতে পারবেন।
আলোচনা সভায় ড. ফাহমিদা খাতুন, তামারা আবেদ হাসান ও রূপালী চৌধুরীর মতো অগ্রগামী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগাভাগি করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সফল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
জাইমা রহমান বিশেষভাবে স্মরণ করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়াকে, যিনি প্রশ্নোত্তর পর্বে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন। সমাজে তরুণ ও মেধাবী নারীরা সঠিক প্রশ্ন তুলছেন- এতে তিনি আশাবাদী বলেও লেখেন। তিনি অনুষ্ঠানের মডারেটর কাজী জেসিনকে আলোচনা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এবং বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নীতিনির্ধারণী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি সময় বের করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে জাইমা রহমান লেখেন, প্রকৃত প্রগতি তখনই সম্ভব, যখন মতভেদ থাকা সত্ত্বেও মানুষ একে অপরের কথা শোনে এবং আলোচনার ভেতরে থাকে। তিনি বলেন, নারীরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তবে সেই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। নারী ক্ষমতায়নকে কেবল বক্তৃতা বা নীতিমালায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই দায়িত্ব শুধু নারীদের একার নয়। সমাজের পুরুষ, নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নিরবচ্ছিন্ন কাজের মাধ্যমেই তাদের সমর্থন প্রমাণিত হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।