মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

আজ পবিত্র হজ, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা


ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজ পালনে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের লাখো মুসল্লি। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে পবিত্র ভূমি। সৌদি আরবে আগামীকাল ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার।

২৬ মে ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ 

আজ পবিত্র হজ, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ধর্মীয় আবেগ ও পরম অনুভূতির মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজের দ্বিতীয় রুকন আদায়ের জন্য আজ হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় হজযাত্রীসহ হাজির সংখ্যা এবার প্রায় ১৬ লাখ। সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করে তারা মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করবেন।

হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ জোহরের নামাজের শেষ ওয়াক্তে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। এ বছর ঐতিহাসিক এই খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ আলি বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবা শেষে সমবেত হাজিরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও মোনাজাত শেষে মাগরিবের নামাজ না পড়েই তারা রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশ্যে।

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পিতা ও পুত্রের এই চরম আনুগত্য ও ত্যাগের স্বীকারোক্তি আল্লাহ কবুল করেন এবং অলৌকিকভাবে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যেকোনো দিন (শুক্র ও শনিবারসহ) কোরবানি করা যাবে।

ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সেজন্য কোরবানির মাংস তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম। এর এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের এবং বাকি এক ভাগ নিজেদের জন্য রাখা নিয়ম। ফলে সামর্থ্যহীন মানুষরাও ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন না।

ভোগান্তি ও সব ক্লান্তি জয় করে কোটি মানুষ শহর ছেড়ে ফিরেছেন নাড়ির টানে, আপন শিকড়ের কাছে। দেশজুড়ে প্রস্তুত হয়েছে ঈদগাহ ময়দান। বৃহস্পতিবার সকালে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

প্রধান জামাত: রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন মাঠ ও মসজিদে ঈদের বিশেষ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাঙালি মুসলমানের ঈদ উদযাপনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। মোগল ও নবাবি আমলে এসে এই উৎসব এক বর্ণিল রূপ পায়। সতেরো শতকের পরিব্রাজক মির্জা নাথানের ‘বাহরিস্তানে গায়েবী’ বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, সে যুগেও ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরা, একে অন্যের বাড়ি যাওয়া, অতিথি আপ্যায়ন এবং মুক্তহস্তে দান করার রেওয়াজ ছিল, যা আজও সাড়ম্বরে টিকে আছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবার ঈদে সরকারি ছুটি থাকছে মোট সাত দিন এবং সংবাদপত্রগুলোর ছুটি থাকবে পাঁচ দিন। ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের সব হাসপাতাল, শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র ও কারাগারে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।