মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

সম্মান না ফেরালে ক্রিকেটে ফিরবেন না এনামুল হক বিজয়


বিসিএলের ফাইনালের দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলেও মাঠে নামেননি এনামুল হক বিজয়। সতীর্থদের খেলা দেখলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্মান ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আর ক্রিকেটে ফিরবেন না।

৩ মার্চ ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ 

সম্মান না ফেরালে ক্রিকেটে ফিরবেন না এনামুল হক বিজয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিসিএলের ফাইনালের দিন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ উপস্থিত হন এনামুল হক বিজয়। স্টেডিয়াম চত্বরে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের খেলা দেখলেও নিজের না খেলতে পারার আক্ষেপ লুকাতে পারেননি এই ওপেনার।

২০২৫ বিপিএলে দুর্বার রাজশাহী-এর হয়ে খেলেছিলেন বিজয়। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। তবে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আসর শেষে কয়েকজন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালের সুপারিশে ৯ জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাদের মধ্যে বিজয়ের পাশাপাশি ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু ও সানজামুল ইসলাম।

বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও অভিযোগের জেরে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে খেলা হয়নি তাদের। যদিও ঘরোয়া অন্য টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাধা ছিল না। তবুও অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে সুযোগ পাননি বিজয়। সর্বশেষ বিসিএলের স্কোয়াডে থাকলেও খেলেননি তিনি। এক টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হবে আর অন্যটিতে নয়- এমন ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

বিজয় বলেন, ‘আমি পেশাদার ক্রিকেটার। ১০-১২ বছর জাতীয় দলে খেলেছি, ৫১টি সেঞ্চুরি করেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ ও “এ” দলে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি উড়ে এসে জুড়ে বসিনি যে আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলা যাবে।’ অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিসিবিকে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি। প্রমাণ পেলে আজীবন বহিষ্কারের দাবিও তোলেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিসিবি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বলে দাবি তার।

বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে বিজয় বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে সেটা বের করতে এক-দুই সপ্তাহ লাগার কথা। দুই বছরেও কিছু বের করতে না পারা মানে সে কিছু করেনি। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি, আমি কিছু করিনি। প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি আর ক্রিকেট খেলব না।’

অভিযোগের প্রভাব পড়েছে তার ক্যারিয়ারে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে শুরুতে দল পাননি, পরে কম পারিশ্রমিকে খেলতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না তিনি।

ক্রিকেটে ফেরার শর্ত জানিয়ে বিজয় বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বিসিবি সসম্মানে সবাইকে জানাচ্ছে যে বিজয় অপরাধী নয়, তার পেমেন্ট ক্লিয়ার করছে এবং সন্দেহের তালিকা থেকে নাম কাটছে- ততক্ষণ আমি খেলব না। আমি টাকার জন্য নয়, সম্মানের জন্য ক্রিকেট খেলি। সেই সম্মান আমি ফেরত চাই।’

সমস্যা সমাধানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানান বিজয়। তবে সভাপতির কাছ থেকে সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

হতাশ বিজয়ের ভাষ্য, ‘ফারুক ভাই ও মিঠু ভাই বলেছেন- দেখছি, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু বিষয়টি ঝুলে আছে। এখন সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’