সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়


আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শনিবার (৩০ মে) বুদাপেস্টে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। সেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শিরোপা ধরে রাখে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা, অন্যদিকে ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হলো আর্সেনালকে। ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন নামকরণের পর রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুটি শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তি গড়লো পিএসজি।

৩১ মে ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ 

আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গত আসরে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবার ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবার তাদের সেই মুকুট ধরে রাখার মিশনটি ছিল বেশ কঠিন। বুদাপেস্টের ফাইনালে প্রথমার্ধে লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী আর্সেনাল। ম্যাচের শুরুতেই পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স আর্সেনাল উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে চলে যায় কাই হাভার্টজের কাছে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক নিয়ন্ত্রণে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান এই জার্মান ফরোয়ার্ড। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা নিজেদের সর্বশেষ ফাইনালের মতোই শুরুতেই এগিয়ে যায় গানাররা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। প্রায় এক ঘণ্টা আর্সেনালের রক্ষণভাগ পিএসজিকে আটকে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙে পেনাল্টি থেকে। ডি-বক্সে পিএসজির উইঙ্গার খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করে বসেন আর্সেনালের ক্রিসথিয়ান মস্কেরা। ভিএআর (VAR) যাচাইয়ের পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি স্পট থেকে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে।

নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে এবং এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারণের মঞ্চে পৌঁছায়।

শুটআউটের রোমাঞ্চে পিএসজির হয়ে প্রথম শটে গোল করেন গন্সালো রামোস। আর্সেনালের হয়ে প্রথম শটে লক্ষ্যভেদ করেন ভিক্টর গিওকেরেস। পিএসজি দ্বিতীয় শটেও সফল হয়। তবে আর্সেনালের এবারিচি এজে বল পোস্টের বাইরে মারলে ব্যাকফুটে চলে যায় গানাররা। এরপর পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে ম্যাচ ফিরিয়েছিলেন গোলরক্ষক রায়া।

পরের শটগুলোতে আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি এবং পিএসজির আশরাফ হাকিমি ও লুকাস বেরালদি গোল করলে টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ চরম সীমায় পৌঁছায়। তবে আর্সেনালের শেষ শটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মারলে নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির টানা দ্বিতীয় শিরোপা।

ইউরোপীয় কাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে দশম দল হিসেবে টানা দুটি শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করলো প্যারিসের ক্লাবটি। অন্যদিকে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের খরা কাটালেও, মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের প্রথম ইউরোপীয় রাজত্ব পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।