বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটে পর্তুগাল


ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে পর্তুগাল। ইতিহাসের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য এক কীর্তি স্থাপন করলেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। ম্যাচে রোনালদো জোড়া গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নেন। পর্তুগাল বড় জয় নিয়ে নকআউট পর্বের দিকে শক্ত কদম ফেললেও, পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে একাধিক সুযোগ পেয়েও রোনালদোর হ্যাটট্রিক না পাওয়াটাই দলটির একমাত্র আক্ষেপ হয়ে রইল।

২৪ জুন ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ 

উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটে পর্তুগাল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে চেপে ধরে পর্তুগাল। ম্যাচের ২ মিনিটেই ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি আক্রমণ রুখে দেয় উজবেক ডিফেন্ডাররা। এর কিছুক্ষণ পরই ফার্নান্দেসের আরেকটি শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫ মিনিটের মাথায় নুনো মেন্দেসের ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন সিআরসেভেন।

তবে সেই ভুল শুধরে নিতে মাত্র এক মিনিট সময় নেন রোনালদো। ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর নিচু ক্রস থেকে দারুণ এক শটে কাছের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়েন রোনালদো।

পর্তুগালের আক্রমণের তোড়ে ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে ডান পায়ের নিখুঁত আড়াআড়ি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে পর্তুগালের সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা হন তিনি।

ম্যাচের মাঝে গাভিয়েনের এক অবিশ্বাস্য শটে উজবেকিস্তান ব্যবধান ৩-১ করার উল্লাসে মেতেছিল। তবে ভিএআর যাচাই করে বিল্ডআপের সময় কানসেলোকে ফাউল করার অপরাধে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে রোনালদোর একটি চিপ শট গোললাইন থেকে খুশানোভ ক্লিয়ার করলে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন সিআরসেভেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোয়াও ফেলিক্সের বুলেট গতির শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫১ মিনিটে রোনালদোর একটি আক্রমণ উজবেক কিপার রুখে দিলেও পরবর্তীতে তা অফসাইড ঘোষণা করা হয়। এরপর ৫২ ও ৫৪ মিনিটে উজবেকিস্তান দুটি পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলরক্ষক দিওগো কোস্তার দৃঢ়তা এবং ডিফেন্সের কল্যাণে গোলবঞ্চিত হয় তারা। আক্রমণভাগের পাশাপাশি পর্তুগালের ডিফেন্সে এসেও কর্নার ক্লিয়ার করে অবদান রাখেন রোনালদো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে ফেলিক্সের ব্যাক-হিল গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লেগে ড্রপ খায়। শেষ পর্যন্ত উজবেক গোলরক্ষক আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে সেটি পর্তুগালকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপরেও রোনালদো আরও দুবার হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। একবার তার শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে পোস্টের বাইরে যায়, আর দ্বিতীয়বার তার চমৎকার হাফ-ভলি রুখে দেন উজবেক কিপার নেমাতভ। ৭৭ মিনিটে উজবেকিস্তানের শোমুরোদভ একটি সহজ সুযোগ মিস করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা রাফা লেয়াও দুর্দান্ত খেলতে থাকেন। ৮৭ মিনিটে নেলসন সেমেদোর কাটব্যাক প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লেয়াওয়ের সামনে আসলে, জোরালো শটে পর্তুগালের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।