শেষ মুহূর্তের গোলে ঘানাকে হারিয়ে শেষ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়া
৩০ জুন ২০২৬, ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে। খেলার মাত্র এক মিনিটেই জুনিয়র আলোনসো কর্নার থেকে গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে অভিজ্ঞ জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার তা রুখে দেন। প্রথমার্ধে জার্মানির আক্রমণভাগ ছিল পুরোপুরি নিষ্প্রভ, প্যারাগুয়ের নিখুঁত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
এই ব্যর্থতার মাশুল জার্মানিকে দিতে হয় হাফটাইমের ঠিক আগেই। একটি কর্নার থেকে নয়্যার বল পাঞ্চ করে ক্লিয়ার করলে ফিরতি বলে দ্রুত আক্রমণ সাজায় প্যারাগুয়ে। মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রস থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো হুলিও এনসিসো দারুণ হেডে বল জালে জড়ান (১-০)। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে প্যারাগুয়ের এটিই প্রথম গোল।
বিরতির পর লেওন গোরেৎজকাকে মাঠে নামিয়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে জার্মানি। তবে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলের দেখা পায় তারা। ফ্লোরিয়ান ভার্টজ বাঁদিক থেকে কেটে ভেতরে ঢুকে বল বাড়িয়ে দেন কাই হাভার্টজের উদ্দেশ্যে। হালকা স্পর্শে বল দূরের কোণে পাঠিয়ে জার্মানিকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান হাভার্টজ। এটি চলতি টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল।
এরপর প্যারাগুয়ের গোলদাতা এনসিসো চোটে পড়ে মাঠ ছাড়লে জার্মানি চাপ বাড়াতে থাকে। ম্যাচের শেষ দিকে হাভার্টজের একটি দুর্দান্ত হেড প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিল আটকে দিলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জোনাথান টাহ জোরালো হেডে গোল করলেও জার্মানির উদযাপনে জল ঢেলে দেয় ভিএআর (VAR)। রিপ্লেতে দেখা যায়, ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ফাউল করেছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়। জার্মানির উপর্যুপরি সেট পিস চাপ সামলে ম্যাচটিকে পেনাল্টি শুটআউটে নিয়ে যায় প্যারাগুয়ে।
পেনাল্টি শুটআউটে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিল দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের কিক ঠেকিয়ে দেন। অবশ্য প্যারাগুয়ের দুই খেলোয়াড়ও সুযোগ মিস করলে নাটকীয়তা বাড়ে। অবশেষে জার্মানির জোনাথান টাহ তার কিক বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে সুযোগ লুফে নেয় প্যারাগুয়ে। হোসে কানালে শেষ পেনাল্টি থেকে গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
জার্মানি: ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম নকআউট ম্যাচ। এই হারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো হতাশাজনক বিদায় ঘটল তাদের।
প্যারাগুয়ে: এই জয়টি প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা অর্জন। রাউন্ড অব ১৬-এ সুইডেনকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স।