সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স
৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
নাটকীয়তার সবটুকু রং যেন ছড়িয়ে পড়ল টরন্টো স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলাল পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার এই রোমাঞ্চকর লড়াই। যোগ করা সময়ের অবিশ্বাস্য সমীকরণ শেষে ২–১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পর্তুগাল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে দ্রুত নেওয়া এক থ্রো-ইন থেকে আক্রমণ সাজায় ক্রোয়াটরা। ডিফেন্ডার ইয়োসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল বুক পেতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে পর্তুগালের জালে বল পাঠান অভিজ্ঞ উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। গোল বাতিলের হতাশায় অবশ্য দমে যাননি তিনি। এর ঠিক আট মিনিট পর (৬৮ মিনিটে) পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে ১–১ সমতায় ফেরান রোনালদো।
ম্যাচের মূল ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতা থাকায় সবাই যখন ড্রয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখনই শুরু হয় আসল নাটক। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) রাফায়েল লিয়াওয়ের চমৎকার ক্রস থেকে হেডে গোল করে পর্তুগালকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গনসালো রামোস।
পর্তুগালের এই গোলের পরও ম্যাচ শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর (১০০+ মিনিটে) অবিশ্বাস্য এক আক্রমণ থেকে গোল পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। সমতায় ফেরার আনন্দে অধিনায়ক লুকা মদরিচসহ পুরো ক্রোয়েশিয়া শিবির যখন বুনো উল্লাসে ফেটে পড়ে, ঠিক তখনই ভিএআর ও রেফারির সিদ্ধান্তে স্তব্ধ হয়ে যায় তারা। অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার সেই গোলটি।
শেষ মুহূর্তের এই অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা পার করে অবশেষে ২-১ গোলের স্বস্তির ও রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।