শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

রূদ্ধশ্বাস ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা


বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে বুক চিতিয়ে লড়ল নবাগত কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দেওয়া এই দলটির দুর্দান্ত প্রতিরোধ ভাঙতে লিওনেল মেসিদের খেলতে হলো অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। রোমাঞ্চে ঠাসা, নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

৪ জুলাই ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ 

রূদ্ধশ্বাস ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে নকআউটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম সাফল্য পায় ২৯ মিনিটে। স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের বক্সের ভেতর বাড়ানো চমৎকার এক উঁচু বল দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নেন লিওনেল মেসি। এরপর দ্রুত ও নিখুঁত এক শটে বল জালে জড়ান দলের এই ত্রাতা।

এই গোলের মাধ্যমে মহাতারকা মেসি গড়েছেন এক অনন্য কীর্তি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২০টি গোল করার রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি, পাশাপাশি চলতি টুর্নামেন্টেও সর্বোচ্চ ৭টি গোলের মালিক এখন এলএম১০।

মেসির গোলের উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে আকাশী-সাদা চাদরে ঢাকা মায়ামি স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন দেরয় দুয়ার্তে। বক্সের কোণ থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত শটে আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯১ মিনিটে) আবার লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আসা কিকে মিডফিল্ডার ম্যাক অ্যালিস্টার আলতো হেড ছোঁয়ানোর পর বক্সের ঠিক পেছনে ফাঁকায় বল পান ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। সময় নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা যখন জোরালো হচ্ছিল, তখনই আবার কামব্যাক করে কেপ ভার্দে।

ম্যাচের ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেজ কাবরাল বক্সের সামান্য ভেতর থেকে কোণাকুণি এক অবিশ্বাস্য রকেট গতির শট নেন। গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ পুরো শরীর বাতাসে ভাসিয়েও বলের নাগাল পাননি, বল বারের একদম ওপরের কোণ ঘেঁষে জালে জড়ায়। পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার মতো এই স্কোরে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় ফেরে।

টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে দানা বাঁধছিল, ঠিক তখনই নিজেদের ভুলে কপাল পোড়ে কেপ ভার্দের। ম্যাচের ১১১ মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফেরা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর একটি জোরালো হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নেওয়া মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমৌশের মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।