শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

মরক্কোকে উড়িয়ে এমবাপ্পের জোড়া রেকর্ড


পেনাল্টির হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেঙে করা এই দৃষ্টিনন্দন গোলের ওপর ভর করে যেমন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসলেন ফরাসি অধিনায়ক, ঠিক তেমনই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে নিলেন নিজের নাম। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার বিরল এক কীর্তি গড়লেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

১০ জুলাই ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ 

মরক্কোকে উড়িয়ে এমবাপ্পের জোড়া রেকর্ড
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে কিছুটা হতাশ করলেও, বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। ডি-বক্সের ঠিক সামনে বল পেয়ে এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ান তিনি। চোখের পলকে মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা জিওপকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জড়ান জালে। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ফরাসি শিবির।

এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে গোল ৮টি, অ্যাসিস্ট ২টি। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ৬০ বছরের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়লেন ২৭ বছর বয়সি এমবাপ্পে। ১৯৬৬ সালের পর তিনি বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার, যিনি টানা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত ১০টি করে গোলে সরাসরি অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেখেছেন। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তিনি সমান ৮টি গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের কার্যকারিতা কতটা তীব্র, তা প্রমাণ করে তার ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান। মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই তার গোলসংখ্যা এখন ২০। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ২১টি গোল করতে খেলতে হয়েছে ৩১টি ম্যাচ। অর্থাৎ, ম্যাচ প্রতি গোলের গড়ে মেসিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন এই ফরাসি তারকা।

মরক্কোর বিপক্ষে এই গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে (৮ গোল)। সমান ৮ গোল নিয়ে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন লিওনেল মেসিও। বিশ্বকাপের এই শেষ মুহূর্তে এসে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইটি এখন রূপ নিয়েছে দুই মহাতারকার তীব্র দ্বৈরথে। আর এমবাপ্পের এমন অতিমানবীয় ফর্মের দিনে ফ্রান্সের মানসম্মত ফুটবলের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতেই হয়েছে মরক্কোকে।