বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
বার্সার গোলবন্যা •

ইয়ামালের জাদুতে দুর্দান্ত জয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শীর্ষে বার্সেলোনা


চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় হান্সি ফ্লিকের দল। ক্যান্সেলো, ফেরমিন লোপেজ, অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমি গোল করেন। দুই ম্যাচে টানা জয় নিয়ে ৯ গোল করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে কাতালানরা।

১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ 

ইয়ামালের জাদুতে দুর্দান্ত জয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শীর্ষে বার্সেলোনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে কাতালানরা। এই জয়ের রাতে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন। পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গালাতাসারাইয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ৭১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নেয় তারা, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে স্বাগতিকদের পাঁচটি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় বার্সেলোনাকে। উল্টো ২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় গালাতাসারাই। রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে অ্যালেক্সি বাত্রাকভের নেওয়া শট জোয়াও ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। তিন মিনিট পর স্বাগতিকরা আবারও গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে দানি ওলমোর শট অফসাইডে থাকা গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে এগিয়ে আসা ক্যান্সেলো নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। তাতে বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যাচে ফিরে আসে সফরকারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে লামিনে ইয়ামালের ক্রস পেয়ে হেডে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ। তিন মিনিট পর ইয়ামালের দারুণ পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল।

এরপর ৬৫ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে চলে এলে দ্রুত নিচু শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। বাকি সময়ে আরও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সেলোনা। তবে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রোলান্ড সালাই। পরে ইয়ামালের পাস থেকে জেসুসের শটও আটকে দেন গালাতাসারাই গোলরক্ষক উগুরজান চাকির।

শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। ম্যাচে গোল না পেলেও ইয়ামাল দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করেন। আক্রমণ সাজানো ও সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বার্সেলোনা। প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারানোর পর দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯। শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও উঠে এসেছে কাতালান ক্লাবটি।

মৌসুমের শুরুতে ধারাবাহিক এই সাফল্য বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে বড় ব্যবধানে জেতার মধ্য দিয়ে ফ্লিকের দলের আক্রমণাত্মক শক্তি ও ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে।