বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
গোলরক্ষকের জাদু •

রুলির বীরত্বে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটি, টাইব্রেকারে বিদায় ব্রাইটনের


কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ব্রাইটনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। টাইব্রেকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে জয়ের নায়ক হয়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক হেরোনিমো রুলি। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে সিটি।

২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ 

রুলির বীরত্বে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটি, টাইব্রেকারে বিদায় ব্রাইটনের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকদের নায়ক হওয়ার সুযোগ তুলনামূলক কমই আসে। সতীর্থরা গোল করলে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন, অথচ গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে নীরবে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদের। তবে বিশেষ দিনে তাঁরাই হয়ে উঠতে পারেন দলের জয়ের প্রধান কারিগর। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কারাবাও কাপের লড়াইয়ে সেই প্রমাণই দিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক হেরোনিমো রুলি।

নিয়মিত গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা বিশ্রামে থাকায় সুযোগ পেয়েছিলেন রুলি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাইব্রেকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে সিটিকে জয় এনে দেন তিনি। তাঁর বীরত্বে ব্রাইটনকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়। ম্যাচজুড়ে দুবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় সিটি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারিত হলে ব্যবধান গড়ে দেন রুলি।

ম্যাচের ৩০ মিনিটে মানিক জুনিয়র ইয়ালেকৌয়ের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। তবে ১০ মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে সিটিকে সমতায় ফেরান মাতেও কোভাচিচ। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭ মিনিটে জর্জিনিয়ো রাটারের গোলে আবারও লিড নেয় ব্রাইটন।

পরাজয়ের শঙ্কায় পড়া সিটিকে ৭২ মিনিটে স্বস্তি এনে দেন ভিতর রেইস। তাঁর গোলে স্কোরলাইন ২-২ হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

সেখানেই শুরু হয় রুলির আসল পরীক্ষা। প্রথম তিনটি করে শটে দুই দলই জালের দেখা পায়। তবে সিটির হয়ে চতুর্থ শটে কোভাচিচ ব্যর্থ হলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ব্রাইটনের সামনে। সেই মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন রুলি। ইয়াসিন আয়েরির শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে সিটিকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

এরপর সিটির হয়ে পঞ্চম শটে গোল করেন রায়ান চেকরি। ফলে সমতা ফেরাতে ব্রাইটনের শেষ শটটি জালে জড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু লুইস ডাঙ্কের নেওয়া শটও বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন রুলি। তাতেই নিশ্চিত হয় সিটির জয়।

দ্বিতীয় সেভের পরপরই সতীর্থরা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে। গোলবারের নিচে নিঃসঙ্গ থাকা মানুষটিই মুহূর্তে হয়ে ওঠেন পুরো দলের উদ্‌যাপনের কেন্দ্রবিন্দু।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভে রুলি শুধু ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেননি, বড় মঞ্চে গোলরক্ষকদের গুরুত্বও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নৈপুণ্যে কারাবাও কাপের শেষ আটে পৌঁছে গেল ম্যানচেস্টার সিটি।