পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বর্তমানে বেশ নাজুক সময় পার করছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে অ-১৯ বিশ্বকাপে মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচ শুরুর আগে টস শেষে দুই দলের প্রতিনিধিদের করমর্দন না করা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে নেতিবাচক বার্তা ও নানা আলোচনা। তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
গত এক বছর ধরেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে বরফ জমেছে। গেল বছর বাংলাদেশ সফরে আসেনি ভারত। চলতি বছরের শুরুতে ‘চলমান পরিস্থিতি’র কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এরপর থেকেই বিসিবির সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসিকে অবহিত করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে অ-১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশের ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস শেষে ভারত অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন করেননি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে যাওয়া জাওয়াদ আবরার। ফলে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।
টস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের। তবে বৃষ্টির কারণে টস কিছুটা দেরিতে শুরু হয় এবং অনিবার্য কারণে আজিজুল হাকিম উপস্থিত থাকতে না পারায় সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার টসে অংশ নেন। টস শেষে দুই দলের প্রতিনিধিদের কেউই করমর্দন না করায় বিষয়টি চোখে পড়ে দর্শক ও বিশ্লেষকদের।
ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে বিসিবি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। বিবৃতিতে বলা হয়,
“অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ফলে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার সে সময় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করাটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তা সাময়িক অসাবধানতার ফল। এতে কোনো ধরনের অশোভনতা বা অসম্মান প্রদর্শনের অভিপ্রায় ছিল না।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্রিকেটের চেতনা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রক্ষা করা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে যেকোনো স্তরেই একটি মৌলিক শর্ত। এ কারণে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি জানায়, খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগে সর্বোচ্চ ক্রীড়াসুলভ আচরণ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে অপ্রত্যাশিত বিতর্কের অবসান ঘটাতে চায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।