মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপেও বয়কটের হুমকি,যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনিচ্ছুক একাধিক দেশ


ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর এবার ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরেও বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান তুলেছে ইউরোপের একাধিক দেশ।

২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ 

ফুটবল বিশ্বকাপেও বয়কটের হুমকি,যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনিচ্ছুক একাধিক দেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর এবার ফুটবল বিশ্বকাপেও বয়কটের হুমকি সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন, ভিসা ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে উদ্বেগের জেরে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি তুলছে অন্তত তিনটি দেশ। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে না যাওয়ার পেছনে মূল কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত নীতি। আগামী পাঁচ মাস পর শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৪টিই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, ভিসা জটিলতা, নিরাপত্তা ইস্যু এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য আগ্রহ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন দেশ ও ফুটবলপ্রেমীরা। এসব কারণে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ও দর্শক উপস্থিতি নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফিফার সাবেক ‘স্বাধীন পরিচালন কমিটি’র চেয়ারম্যান, সুইস আইনজীবী মার্ক পিয়েত সম্প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ফুটবলপ্রেমীদের একটাই পরামর্শ দেব- আমেরিকা থেকে দূরে থাকুন।” যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সীমান্তে যাত্রীদের হয়রানির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

মার্ক পিয়েতের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ফিফার সাবেক সভাপতি শেপ ব্লাটার। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় পিয়েত একদম সঠিক কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।”

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারও দিয়েছে ফিফা। সমালোচকদের মতে, এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি ফিফা।

এদিকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জেরে মিনিয়াপোলিসে সহিংসতা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান ও হাইতির মতো কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অথচ এসব দেশই ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে। ফলে তাদের সমর্থকেরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা দেখবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ডেনমার্ক এ কারণে বয়কটের দাবি তুলেছে। একই অবস্থান নিয়েছে জার্মানি।

জার্মান ফুটবল সংস্থার সহ-সভাপতি ওক গটলিচ বলেন, “আমার মনে হয়, এখনই বয়কটের সঠিক সময়। কাতার বিশ্বকাপে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। এখনো তো একই ঘটনা ঘটছে।”

জার্মানির পাশে দাঁড়িয়েছে নেদারল্যান্ডসও। দেশটিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ একটি পিটিশনে সই করেছেন, যেখানে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সেখানে খেলতে যাওয়া উচিত নয়।

ইউরোপের একের পর এক ফুটবল শক্তিধর দেশের বয়কটের হুঁশিয়ারিতে বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও আন্তর্জাতিক চাপ।