শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

নতুন ভিসানীতি অনুমোদন দিল সরকার


দেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে একটি নতুন ও সহজতর ভিসানীতি অনুমোদন করেছে সরকার। আগে অন্য দেশগুলোর সাথে 'পারস্পরিক নীতি' বা তারা যতদিনের ভিসা দেবে, বাংলাদেশও ঠিক ততদিনের ভিসা দেবে-এই নিয়মে চললেও, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সেই কড়াকড়ি থেকে সরে আসছে ঢাকা। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভিসানীতি-২০২৬’ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

২ জুলাই ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ 

নতুন ভিসানীতি অনুমোদন দিল সরকার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে ব্যবসা, বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পর্যটন খাতের প্রসারে ২০০৬ সালের পুরনো ভিসানীতি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ এবং সুশৃঙ্খল করা হবে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, নতুন এই নীতিমালায় ভিসার ধরণ বা ক্যাটাগরি বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে। তবে নীতিমালাটিকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন: "আগে আমাদের হিসাব ছিল পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। অন্য দেশ আমাদের যতদিনের ভিসা দিত, আমরাও তাদের ঠিক ততদিনের ভিসা দিতাম। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে আমাদের নিজস্ব কিছু জায়গায় বাড়তি সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় বাইরের দেশের ‘সারপ্লাস’ বা উদ্বৃত্ত পুঁজি বাংলাদেশে টানার চেষ্টা করছে সরকার। একজন বিদেশি ব্যবসায়ী যখন বিনিয়োগের বড় প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তখন তাকে দ্রুত ও সহজে ভিসা দেওয়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্যই প্রয়োজন। এই 'ইকোনমিক থ্রাস্ট' বা অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যেই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার এই উদ্যোগ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এই খসড়া নীতিমালাটি পুরোপুরি চূড়ান্ত করার আগে এর পরিমার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নবগঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিকে।এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূলত নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখবে। এছাড়া বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতো অংশীজনদের স্বার্থ ও প্রস্তাবনাগুলোকেও এই নীতিমালায় যুক্ত করা হবে, যাতে করে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা-উভয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নতুন ভিসানীতি কার্যকর হলে বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে।