নির্বাচন নিয়ে ইসির নতুন পরিকল্পনা
১০ জুলাই ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। গত বৃহস্পতিবার রাতে রয়টার্সের সঙ্গে নেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই নেতা তাঁর এই আকস্মিক পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন, যা শুক্রবার প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থাটি।
সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনঝুঁকির কথা স্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, "দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর তীব্র নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন আমার নিজের মাটিতেই হয়-যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।"
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার সব অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, আদালতে নিজেদের সমর্পণ করার মাধ্যমে তাঁরা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা পরীক্ষা করতে চান। তাঁর সঙ্গে দলের অন্য নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও ফিরবেন বলে তিনি জানান, যাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে অন্য নেতাদের বর্তমান অবস্থান বা এই পরিকল্পনার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের জন্য বর্তমান সরকার ভারতের কাছে একাধিকবার চিঠি ও প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করিনি, আমি নিজেই চলে যাব।"
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দুই বছরের তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যখন দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, ঠিক এই সময়ে শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
এদিকে, শেখ হাসিনার এই বিস্ফোরক বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।