এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
নিজেদের নানা ব্যর্থতার কারণেই ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টেকেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সময় সংবাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মামুনুল হক বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। ভেঙে পড়া সমঝোতা ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনো বৈঠক হবে না বলেও তিনি জানান।
জোট ভেঙে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জোট না টেকার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র এখনো দেখছি না। নিজেদের নানা ব্যর্থতার কারণেই এই দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে আরও আন্তরিক হওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
শরিয়া আইন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়ে মামুনুল হক দাবি করেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ভুলভাবে বোঝা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীকে দোষারোপ করে ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অভিযোগ, শরিয়া আইন বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়ে এবং সমঝোতার নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী আদর্শগত অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অপমানের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সময় সংবাদকে বলেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির স্পষ্টভাবে বলেছেন—বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘অসম্মানজনক আচরণ’-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে এ ধরনের ভুল হতে পারে, একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী। জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের এখনও সময় রয়েছে। ইসলামী দলগুলো এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।