এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কারিগরি জটিলতার কারণে ওই আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যালট পেপার থেকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) শেষ সময়ে প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এক চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যালট পেপারে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক না রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।
চিঠিতে জামায়াত জানায়, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার ভিত্তিতে তারা নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দিয়েছে। তবে ওই দুই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় ব্যালট পেপারে প্রতীক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।
একইভাবে, জামায়াত আরও জানায় যে ভোলা-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও চট্টগ্রাম-১২- এই পাঁচটি আসন যথাক্রমে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব আসনেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা সময়মতো মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালট পেপারে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়।
জামায়াতের আবেদনের জবাবে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৬(২) উদ্ধৃত করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী সম্পর্কে অবহিত না করলে প্রতীক বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যালট পেপার থেকে কোনো প্রতীক প্রত্যাহারের আইনগত সুযোগ নেই- এ তথ্য দলটিকে অবগতির জন্য জানানো হলো।
ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে ১০ দলীয় জোটের শরিক প্রার্থীদের পাশাপাশি জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরাও ওই সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।