শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত


ঈদের ছুটির কারণে নির্ধারিত তারিখের কিছুটা পরে, আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার বাংলাদেশে তা আজ উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১০ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ 

যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ওই সময়ে দেশে ঈদের ছুটি থাকায় আজ ১০ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ।" বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।" একই সঙ্গে তিনি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম স্থানে ছিল। এর আগেও কখনো প্রথম, আবার কখনো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে বিশ্বশান্তি রক্ষায় গৌরবময় অবদান রেখেছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ নেওয়া শুরু। এরপর গত ৩৮ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের এক গর্বিত অংশীদারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছে ১৯৯৩ সাল থেকে।

অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী:

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে সর্বমোট ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী ৩ হাজার ৬৪৫ জন এবং সেনাবাহিনী থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন। বর্তমানে জাতিসংঘের ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের ১৭৫ জন বীর শান্তিরক্ষী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জীবনদানকারী এই বীরদের মধ্যে রয়েছেন:

সেনাবাহিনী: ১৩৮ জন

নৌবাহিনী: ৪ জন

বিমানবাহিনী: ৯ জন

পুলিশ: ২৪ জন

এছাড়া বিশ্বশান্তি রক্ষার এই মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট ২৮৭ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময়ে আহত হয়েছেন।