মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস


জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরাই ভবিষ্যতে বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন যেমন দেশের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তেমনি ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ 

জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল, তেমনি ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর যে গণবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সরকারের পতনের কারণ হয়েছিল।

ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল খাতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাত থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হবে এবং এর প্রভাব অন্যান্য সব খাতে ছড়িয়ে পড়বে। নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুধু একটি সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে তুলে দেবে, আর জনগণ নিজেদের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে। এটিই তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা প্রায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাকে ভুল আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এটি এক ধরনের দাসপ্রথার সামিল। চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করাই সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় একই পদে থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় সরকারি চাকরি করলে মানসিকতা স্থবির হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। একইভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর নতুন করে শুরু করা উচিত, কারণ সময়ের সঙ্গে লক্ষ্য বদলালেও মানুষ পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়েই থেকে যায়।

জালিয়াতি প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে ‘সেরা’ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রযুক্তিতে এগোতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে মাথা উঁচু করে চলার মতো সক্ষমতা দেশের রয়েছে।