দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা-অশান্তি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বিরোধীদলের উদ্দেশ্য
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহত নাছির উদ্দীন কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা এবং প্রয়াত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে নাছিরের বাড়ির পাশ থেকে গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় মাটি কাটা, পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ আরও জানায়, নিহত নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাউজান পৌরসভার জঙ্গল রাউজান এলাকায় কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার ভোরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত দুই বছরে কাউসারুজ্জামান একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি নানাবাড়ি থেকে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেও রাউজানে একাধিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ৫ জানুয়ারি একই এলাকায় মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামে আরেক যুবদল নেতাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার কোনোটি এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।