এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৮ জুলাই ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি অর্থনীতি উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্ধু হওয়ার সক্ষমতা রাখে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতার বড় অংশই অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এ কারণে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করা যেমন বাস্তব প্রয়োজন, তেমনি দুই দেশের মধ্যে আন্তরিক সহযোগিতারও সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি আরও ত্বরান্বিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতিও চীনের সঙ্গে। বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর হলেও বাংলাদেশ থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও কম পণ্য চীনে রপ্তানি করা হয়।বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে। এই পারস্পরিক স্বার্থই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস ও সানজিদা ইসলাম তুলি।
বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।