অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান ১ জুলাই–৩০ জুনের পরিবর্তে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল–৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে। পরিবর্তনের আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে নয় মাসে শেষ করা হবে।
বাংলাদেশের অর্থবছরের প্রচলিত সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ওই অর্থবছর শেষ হবে ২০২৮ সালের মার্চে।
এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এপ্রিল থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হবে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবছরের সূচনা হবে।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে বর্ষাকাল একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টসহ বর্ষার সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়।
বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়ে, অনেক ক্ষেত্রে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের কারণে জনদুর্ভোগও বাড়ে।
সরকার মনে করছে, অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত করা হলে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বছরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ার পাশাপাশি কাজের মানও উন্নত হবে।
নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের পরবর্তী করণীয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।
এ পরিবর্তনের জন্য দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, হিসাব সংরক্ষণসহ আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলো নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব আইনগত ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি পুরোপুরি কার্যকর হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বছরের শেষ সময়ে সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ কমানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রচলিত অর্থবছর জুনে শেষ হওয়ায় অনেক সময় অর্থবছরের শেষ দিকে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এতে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে অর্থবছর শেষ করার তাগিদ তৈরি হয়।
নতুন সময়সূচি চালু হলে বর্ষাকাল শুরুর আগেই উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার। একই সঙ্গে অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কমবে এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসে সীমিত রাখার মাধ্যমে পুরোনো ও নতুন অর্থবছরের সময়সূচির মধ্যে একটি রূপান্তরকাল তৈরি করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পর ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সরকারি আর্থিক কার্যক্রম নতুন এপ্রিল-মার্চ ভিত্তিক অর্থবছর অনুযায়ী পরিচালিত হবে।