এলপিজির সংকট নেই, মজুত করে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা
১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবে পরিচিত বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার দর এবং জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এসব হার ঘোষণা করে কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩৩ কেভি সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ কিনবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সায়। আর ১৩২ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ টাকা ১১ পয়সা।
মার্চেন্ট পাওয়ারের আওতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রির সুযোগ থাকছে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য ঠিক করতে পারবেন। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারি সঞ্চালন বা বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করলে নির্ধারিত হারে মাশুল দিতে হবে। সরকারি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের এই মাশুলকে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বলা হচ্ছে। সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ধরন অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত থাকবে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ নেবেন, সেখানে ভোল্টেজ পর্যায় অনুযায়ী মাশুল হবে ২৩০ কেভিতে ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা। এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুধু সঞ্চালন বাবদ ২৩০ কেভিতে ইউনিটপ্রতি ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা। এর সঙ্গে হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য আরও ৫ পয়সা দিতে হবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক যদি সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে ভিন্ন বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকেন, তাহলে সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। ফলে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।
অন্যদিকে, উৎপাদক ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা দিতে হবে না। ওই ক্ষেত্রে সরবরাহের প্রান্তের বিতরণজনিত লসও প্রযোজ্য হবে না। দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে এ হিসাবের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে একই বিতরণ সংস্থার আওতাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ২২ পয়সা। এর বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও যুক্ত হবে। সঞ্চালন লসের জন্য পাওয়ার গ্রিডের প্রকাশিত মাসিক প্রকৃত গড় হার এবং বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজ পর্যায়ের সর্বশেষ অর্থবছরের অর্জিত হার বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার জন্যও আলাদা মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। বিপিডিবির ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা এবং ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জন্য ৮৭ পয়সা এবং নেসকোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব রাখা এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বয় করবে বিপিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রাপ্য মাশুল পরিশোধ করবে সংস্থাটি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় একটি এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তার ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করতে পারবে। বাকি বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রির সুযোগ থাকবে।