আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিথিলা • নিউইয়র্কে গবেষণা ও শিক্ষকতায় মিথিলা
৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অক্টোবর মাসের জন্য নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকোর অক্টোবর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইসের (সিপি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে প্রতি টন প্রোপেনের সৌদি সিপি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৩০ ডলার। এলপিজির মূল্য হিসাবের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি বিবেচনা করা হয়েছে টনপ্রতি ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার। এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল টনপ্রতি ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার। সে সময় দুই উপাদানের গড় মূল্য ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে গড় সৌদি সিপি বেড়েছে টনপ্রতি ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার।
আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে
এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণে আমদানি ব্যয়ের অন্যান্য উপাদানও বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি। অক্টোবরে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম বাবদ টনপ্রতি ২৫০ ডলার হিসাব করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬০ ডলার। ফলে এক মাসে এই ব্যয় বেড়েছে টনপ্রতি ৯০ ডলার।
অন্যদিকে, মূল্য নির্ধারণে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছে ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা। আগের মাসে এই হার ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা। এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
নতুন মূল্য ঘোষণার পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সরবরাহ নিয়ে সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছেন।
এলপিজি বাজারের এই পরিস্থিতির জন্য ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা পরস্পরকে দায়ী করছেন। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকেরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমদানিকারকেরা। তাদের পক্ষ থেকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে দেশের সরবরাহ পরিস্থিতিও এলপিজির বাজারে চাপ তৈরি করছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।