নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
১৪ জুন ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার বিস্তার ও গুণগত মানোন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৭০টি নতুন স্কুল, কলেজ এবং ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করা হবে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই মহাপরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা আরও স্কুল, কলেজ এবং ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এর অংশ হিসেবেই ৬৭০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের শিক্ষাখাতে একটি অত্যন্ত বড় কর্মসূচি। এই ধরনের বৃহৎ কর্মসূচি শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকারের অগ্রযাত্রারই একটি অংশ।”
কর্মশালায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পরিসংখ্যানের ভিন্নতার কথা তুলে ধরে বলেন, “কাগজে-কলমে পরিসংখ্যানে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তব চিত্রে গ্রামাঞ্চলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের উপস্থিতি অনেক বেশি দেখা যায়।”
তিনি স্মরণ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ‘ফুড ফর এডুকেশন’ (শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা নগদ সহায়তা ও উপবৃত্তি কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হয়। নারীদের জন্য এই উপবৃত্তি চালুর ফলেই শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এই সুবিধা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ডিগ্রি পর্যায়েও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই এ ধরনের বিশেষ সহায়তা চালুর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দেশে বাল্যবিয়ে এখনো গোপনে ঘটছে উল্লেখ করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সরকার বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে হলে এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
মাদরাসা শিক্ষাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে মন্ত্রী জানান, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দেশের মাদরাসা শিক্ষায়ও এখন কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বৃত্তিমূলক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে দেশের মানবসম্পদে রূপান্তর হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এছাড়া কর্মশালায় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।