বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক সিরিজ উৎসবে নজর কাড়ল বাংলাদেশের ‘অ্যানি’


বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ ইতিহাস গড়ে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশি সিরিজ ‘অ্যানি’। বিশ্বখ্যাত বিনোদন সাময়িকী দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর তালিকায় ২০২৬ সালের উৎসবে নজরকাড়া সেরা পাঁচটি আন্তর্জাতিক সিরিজের মধ্যে সবার শীর্ষে স্থান পেয়েছে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালিত এই থ্রিলার ড্রামাটি। উৎসবের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্বাচনের গৌরব অর্জন করল, যা দেশের স্ট্রিমিং শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

১৬ জুন ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ 

আন্তর্জাতিক সিরিজ উৎসবে নজর কাড়ল বাংলাদেশের ‘অ্যানি’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশি সিরিজ ‘অ্যানি’। সম্ভাবনাময় নতুন সিরিজগুলোর আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে এবারই প্রথম কোনো বাংলাদেশি কনটেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়ল।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত বিনোদন সাময়িকী দ্য হলিউড রিপোর্টার ২০২৬ সালের উৎসবে নজরকাড়া সেরা পাঁচটি আন্তর্জাতিক সিরিজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও করপোরেট প্রতারণার মতো বৈচিত্র্যময় ঘরানার এই তালিকায় সবার শুরুতেই স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার বাকি সিরিজগুলো এসেছে অস্ট্রিয়া, ইসরায়েল, জার্মানি এবং ফ্রান্স-বেলজিয়াম থেকে।

বাংলাদেশের ‘অ্যানি’

‘সেরিয়েনক্যাম্প’-এর ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি সিরিজ হিসেবে ‘অ্যানি’ দেশের ওটিটি ও স্ট্রিমিং শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন দেশের অন্যতম আলোচিত নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, যাঁর আগের চলচ্চিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যানি একজন তরুণ নার্স। পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে তাঁর বেঁচে থাকার লড়াই এক ভয়াবহ হামলার পর সম্পূর্ণ বদলে যায়। নিজের ভেতরের ও চারপাশের নির্মমতার মুখোমুখি হতে হতে একসময় প্রতিশোধের এক অন্ধকার পথে পা বাড়ান তিনি। নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন ও ফারহানা মিঠু। হলিউড রিপোর্টারের মতে, বৈশ্বিক মঞ্চে ‘অ্যানি’র এই অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের কনটেন্ট এখন আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও গভীরভাবে আকর্ষণ করছে।

তালিকায় থাকা অন্য চার আন্তর্জাতিক সিরিজ

সেরিয়েনক্যাম্প উৎসবের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘অ্যানি’র পাশাপাশি আরও যে চারটি ভিন্নধর্মী সিরিজ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে:

১. ‘ব্রাউনশলাগ ১৯৮৬’ (অস্ট্রিয়া): এটি একটি কাল্ট ডার্ক কমেডি সিরিজের সিক্যুয়েল। বর্তমানের ডিজিটাল ডিটক্স সংস্কৃতি ও প্রাদেশিক রাজনীতিকে ব্যঙ্গ করে গল্পে দেখানো হয়েছে, কীভাবে একটি শহরের সব সমস্যা সমাধানে সেখানকার কর্তৃপক্ষ আবার ১৯৮৬ সালে ফিরে যাওয়ার অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেয়।

২. ‘ফাদিয়া’ (ইসরায়েল): সম্মানরক্ষার নামে পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নির্মিত আরবি ভাষার একটি থ্রিলার সিরিজ। পরিবারের হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক তরুণীর ট্রমা ও টিকে থাকার লড়াই এই গল্পের মূল উপজীব্য।

৩. ‘দ্য ফ্লজ’ (জার্মানি): ২০২৬ সালের উৎসবের সেরা আন্তর্জাতিক সিরিজের পুরস্কার জিতেছে এই জার্মান কমেডিটি। সরকারি আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতাকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত এই সিরিজে দেখা যায়, ১১ জন ব্যর্থ সরকারি কর্মচারী ভুলবশত একটি এলিট প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ঢুকে পড়ার পর কী ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

৪. ‘এলডোরাডো’ (ফ্রান্স-বেলজিয়াম): ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের পটভূমিতে ঘটে যাওয়া এক বাস্তব করপোরেট প্রতারণার ঘটনা অবলম্বনে এটি নির্মিত। আকাশপথে তেল খোঁজার ভুয়া প্রযুক্তি দিয়ে এক বড় তেল কোম্পানিকে বোকা বানানোর রোমাঞ্চকর রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ষড়যন্ত ফুটে উঠেছে এই সিরিজে।

বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে বড় বড় প্রিমিয়ারের ভিড়ে এই সিরিজগুলো তাদের নিজস্ব গল্প ও নির্মাণশৈলীর কারণে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য পেতে যাচ্ছে।