পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস
১৯ জুন ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার উচ্চারিত হলো বাংলাদেশের নাম। গত ১২ জুন (শুক্রবার) কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আয়োজনে গান পরিবেশন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ শিল্পী ও সংগীতায়োজক সঞ্জয়।
‘সির সির’ শিরোনামের ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের একটি গানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন বলিউডের তুমুল জনপ্রিয় কানাডীয় তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপহপ সেনসেশন ভেজেড্রিম। বিশ্বমঞ্চে তাঁদের এই যৌথ পারফরম্যান্স কোটি ফুটবলপ্রেমীকে আন্দোলিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয়ের গায়কির পাশাপাশি সবার নজর কেড়েছে তাঁর পরিহিত বিশেষ জ্যাকেটটি। জ্যাকেটের ডান হাতাজুড়ে সুনিপুণ এমব্রয়ডারিতে ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের পরিচয়ের তিনটি শক্তিশালী প্রতীক- রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা।
গৎবাঁধা জার্সি না পরে নান্দনিক উপায়ে দেশকে তুলে ধরার এই অভিনব পরিকল্পনা সম্পর্কে সঞ্জয় বলেন, "ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই ভাবছিলাম কীভাবে আলাদাভাবে দেশকে উপস্থাপন করা যায়। আমার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছায়া কুমারের সঙ্গে মিলে এই জ্যাকেটের নকশা তৈরি করি। পোশাকের হাতায় থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের শক্তি ও সাহসের প্রতীক, শাপলা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়, আর লাল-সবুজ রঙে মিশে আছে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পরিচয়ের গল্প।"
মঞ্চে পারফর্ম করার সময় সঞ্জয়কে বারবার নিজের ডান হাতার সেই নকশার দিকে ইঙ্গিত করে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায়। সঞ্জয় জানান, এটি পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। মূলত শেকড়ের টান ও আবেগ থেকেই অচেতন মনে তিনি বিশ্ববাসীকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন তাঁর বাংলাদেশের কথা। জ্যাকেটটি গায়ে জড়ানোর পর তাঁর হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল এবং মঞ্চে ওঠার পর অনুভব করেছিলেন- তাঁর সাথে আজ পুরো বাংলাদেশ রয়েছে।
তবলা থেকে ফিফার মঞ্চ: সঞ্জয়ের গল্প
সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে হাতেখড়ি হওয়া সঞ্জয়কে ১১ বছর বয়সে পাড়ি জমাতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে প্রবাসের জীবনেও খেলাধুলা বা অন্য কিছুতে না জড়িয়ে সংগীতকেই জীবনের ধ্রুবতারা করেছিলেন তিনি।
সংগীতের এই দীর্ঘ যাত্রায় সঞ্জয়ের মূল অনুপ্রেরণা তাঁর মা। মায়ের হাত ধরেই তবলার তাল-লয়ের সাথে পরিচয় এবং তেরো বছর বয়সে উপহার পাওয়া একটি ল্যাপটপেই শুরু হয় গান তৈরির সফটওয়্যার ‘রিজন’-এর সাথে সখ্যতা। বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীতায়োজক হাবিব ওয়াহিদ ও ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সৃষ্টি তাঁকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরবর্তীতে বিশ্বসংগীতের ইয়ান্নি, হ্যান্স জিমার, এ আর রহমান, স্ক্রিলেক্স কিংবা ক্যালভিন হ্যারিসের মতো তারকাদের কাজ পছন্দ করলেও নিজের বাংলা গান ও বাঙালি সংস্কৃতির সাথে আধুনিক ধারার মিশ্রণ ঘটাতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন সঞ্জয়।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সঞ্জয়ের এই রাজকীয় পদচারণা প্রমাণ করে দিল- সুযোগ ও সঠিক প্রতিভা থাকলে সংস্কৃতির হাত ধরে যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশ।