সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু


শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার (২৮ জুন) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একযোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

২৮ জুন ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ 

সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। রোববার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে অভিভাবকেরা তাদের শিশুদের নিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে আসতে শুরু করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পেইনে শিশুদের বয়সভেদে দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে:

৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের: একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের: একটি করে লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।

এই কর্মসূচি সফল করতে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ও জনাকীর্ণ স্থান যেমন-বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটগুলোতে শিশুদের সেবা দিতে আরও প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার নির্ধারিত সময়ে কোনো শিশু যদি বিশেষ কোনো কারণে ক্যাপসুল খেতে না পারে, তবে চিন্তার কিছু নেই। পরদিনই সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের পর আরও চার দিন বিশেষ এই কার্যক্রম চালু থাকবে। সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিশুদের অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি’র মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে এটি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এটি ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে পৃথক রূপ পায়। ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবার (এনএনএস) অধীনে পরিচালিত হওয়ার পর কিছুদিন এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে চলতি ২০২৬ সালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্বে কর্মসূচিটি আবারও পূর্ণোদ্যমে চালু করা হলো।