মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড: ৪১ বছর বয়সে রোনালদোর জোড়া গোল
২৬ জুন ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ম্যাচ শুরুর আগে কানসাস সিটিতে প্রবল বজ্রপাত ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে খেলা শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও, নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়ায় গ্রুপ পর্বের এই শেষ ম্যাচটি। বৃষ্টিভেজা অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই লিড পায় ডাচরা। ড্যানজেল ডামফ্রিসের বাড়ানো একটি বিপজ্জনক নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিউনিসিয়া অধিনায়ক এলিস সখিরি নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন (আত্মঘাতী গোল)। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৭ম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কমলা শিবির। তিইয়ানি রেইনডার্সের ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের ডাইভিং হেডে বল পেয়ে যান ব্রায়ান ব্রোবি। কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি সান্ডারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। চলতি বিশ্বকাপে এটি ব্রোবির তৃতীয় গোল। ম্যাচের প্রথম সাত মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে মেক্সিকান ওয়েভে মেতে ওঠেন গ্যালারিতে থাকা ডাচ সমর্থকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় তিউনিসিয়া। ৫৪ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির চমৎকার কর্নার কিক থেকে দারুণ হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন হাজেম মাস্তুরি। তবে তিউনিসিয়ার সেই উদযাপনের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬২ মিনিটে আবারও ডাচদের গোল উৎসব। রেইনডার্সের বাঁ-দিকের নিখুঁত কর্নার থেকে হেড করেন জান পল ভান হেক। বলটি তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার আনিস বেন স্লিমানের মাথায় সামান্য ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। জাতীয় দলের হয়ে এটি ভান হেকের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডাচরা।
এই জয়ের পর ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে মোট ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এফ'-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখল নেদারল্যান্ডস। দিনের অন্য ম্যাচে আরলিংটনে জাপান ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ফলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে পা রাখল জাপান, যেখানে শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ব্রাজিল। অপরদিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানের সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে কোনো রকমে টিকে গেল সুইডেন।
তিউনিসিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল একটি দুঃস্বপ্নের মতো। বাছাইপর্বে একটি গোলও না হজম করে মূল পর্বে আসা দলটি গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে হজম করেছে রেকর্ড ১২টি গোল। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করে অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দলের ভাগ্য বদলানো যায়নি। জাপানের কাছে ৪-০ এবং শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের।