কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব-বুবলী
৭ জুন ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের কাছে বিআরআই কাঠামোর আওতায় ২৩টি খাতের একটি ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে চীন। আগে বিআরআই মূলত সড়ক, সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক থাকলেও, বেইজিংয়ের নতুন এই খসড়ায় ডিজিটাল সংযোগ, তথ্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চীনের খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিআরআই কাঠামোর আওতায় যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এতে শান্তি, উন্মুক্ততা, পারস্পরিক লাভ, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব রূপান্তর এবং জনগণকেন্দ্রিক অগ্রযাত্রার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চীনের এই নতুন প্রস্তাবে বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগে’ যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি যৌথ কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী চীন।
খসড়া নথিতে বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলাদা আলোচনা বা বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া চীন বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলাগুলোতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইম্পোর্ট এক্সপো, চায়না ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশন।
বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বেইজিং দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কম-কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করতে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিয়মিত ‘চীনা ভাষা শিক্ষা ফোরাম’ আয়োজন, গবেষক-শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধি এবং থিংক-ট্যাংক পর্যায়ে সংলাপ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া করোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য এবং ওষুধশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি, জ্বালানি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও থাকছে নতুন নতুন যৌথ উদ্যোগ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই বহুমাত্রিক প্রস্তাবের ফলে বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং চীনা বিনিয়োগের এক বিশাল ও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঐতিহ্যগত অবকাঠামো উন্নয়নের বাইরে গিয়ে ডিজিটাল সংযোগ ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে এই সহযোগিতা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এই খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেলে তা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।