শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী


ঢাকায় ভারতের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিনি দুই গণতান্ত্রিক দেশের যৌথ জনশক্তিকে বিশ্বমঞ্চে এক বিশাল শক্তিতে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছে।

১২ জুন ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ 

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে সস্ত্রীক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তি‌নি। বাংলাদেশে আসার পর তিনি ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

সীমান্তে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি একসঙ্গে করা হয় তাহলে ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে তা বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন; যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে যেন সফল হই।" দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার এবং অচিরেই বন্ধ থাকা টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের (আইএফএস) কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছে ভারত সরকার। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাকে বাংলাদেশের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দীনেশ ত্রিবেদী চমৎকার বাংলা বলতে পারেন এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর বোঝাপড়া রয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্ক রয়েছে।

আশির দশকে কংগ্রেস দলের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা এই প্রবীণ নেতা পরবর্তীতে জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার দিল্লির উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আবারও সংসদ সদস্য হন এবং ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এক সময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসেবে পরিচিত হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। সবশেষ ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন।

শুক্রবার বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে আসা সহধর্মিনী মৃণাল ত্রিবেদীসহ সড়কপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন নতুন এই হাইকমিশনার।