শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর


ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ বাহিনীর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই পাঁচ শিশু নিহত হয়। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ 

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলার একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার সময় ভবনটির বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর পাঁচতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে কাচ, কংক্রিট ও ধাতব কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, শুধু প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনেই ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যেও সাত শিশু রয়েছে।

হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হয়। রুশ হামলার তীব্র সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, শিশু ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা সন্ত্রাস সৃষ্টির পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর এক দিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো রুশ হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনে রুশ হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত নিয়মিতই বাজছে। হামলার আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কম্বল ও শোয়ার মাদুর নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে রাত কাটাচ্ছেন।

কিয়েভের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, হামলার আশঙ্কায় তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। শহরের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং কর্মস্থল থেকেও নিরাপদ থাকার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি এই হামলাকে যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আবারও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে বসবাসকারী ইউলিয়া শামরাই নামের এক নারী প্রশ্ন তুলেছেন, আবাসিক এলাকায় এমন হামলা চালিয়ে রাশিয়া কী ধরনের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান প্রায় পাঁচ বছরের সংঘাতে বেসামরিক অবকাঠামো ও জনবসতিতে হামলার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়েছে।