শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নগ্ন ট্রাম্পের সোনালি ভাস্কর্য


ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতার নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য। ডেনমার্কের শিল্পী জেন্স গালশিয়টের তৈরি ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামের এই ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্মে ট্রাম্পকে এক দুর্বল ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা গেছে। ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ট্রাম্পের নীতি ও বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার বার্তা তুলে ধরেছেন শিল্পী।

৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নগ্ন ট্রাম্পের সোনালি ভাস্কর্য
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্যস্ত করিডোরে স্থাপন করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতার একটি ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য। নগ্ন অবস্থায় তৈরি এই ভাস্কর্যটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। শিল্পকর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ (The Orange Plague)।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেন্স গালশিয়ট। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে এটি উন্মোচন করা হয়। তামার তৈরি ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও ছোট আকৃতির এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ট্রাম্পের দুই পা ও ঝুলে থাকা পেট ওই ব্যক্তির মাথাকে ঘিরে রেখেছে। এক হাতে তিনি একটি লম্বা গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা ধরে আছেন।

ভাস্কর্যটির পাদদেশে লেখা রয়েছে- ‘আমি একজন মানুষের পিঠে বসে আছি। আমার ভারে সে ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব। তবে তার পিঠ থেকে নামব না।’

শিল্পী জেন্স গালশিয়ট বলেন, ‘ট্রাম্প সোনা পছন্দ করেন। এক অর্থে আমার মনে হয়, এই ভাস্কর্যটি তারও পছন্দ হতে পারে।’

গালশিয়টের ভাষ্য, এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি ট্রাম্পের কথিত হুমকির প্রতীক তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার মতে, ‘ট্রাম্প আমার বিশ্বাস করা সবকিছু ধ্বংস করছেন।’ ভাস্কর্যটির আরেকটি নাম দেওয়া হয়েছে ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’।

তবে এটি সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ নয়। ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লাউসেন এই প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারেন। তবে এসব প্রদর্শনীর জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, এমন কোনো অনুষ্ঠান বা প্রদর্শনী অনুমোদন করা হয় না, যা ‘আপত্তিকর বা উসকানিমূলক’, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যবোধের পরিপন্থী কিংবা পার্লামেন্টের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে। ট্রাম্পের এই সোনালি ভাস্কর্য স্থাপনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবস্থান নিয়ে শিল্পের ভাষায় তীব্র সমালোচনার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন