নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
১৩ জুন ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
ইটের দেয়ালের শহরে একটুখানি সবুজের ছোঁয়া পেতে বারান্দা বাগানের জুড়ি নেই। আর তা যদি হয় বর্ষার সতেজ ফুল, তবে তো কথাই নেই। বর্ষার পানি ও আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে খুব কম সময়েই বারান্দায় ফুলের মেলা বসানো সম্ভব। আমাদের এই দূষিত নগরিতে শান্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যেন এখন বিলাসিতা, তাই বারান্দায় যদি কিছু গাছ থাকে তাহলে দিনের শুরুই হতে পারে সতেজতা দিয়ে ।
বারান্দার সৌন্দর্য বাড়াতে যেসব গাছ বারান্দায় লাগাতে পারেনঃ
বর্ষার নাম শুনলেই যে ফুলটির কথা প্রথমে মাথায় আসে, তা হলো রেইন লিলি। সাদা, গোলাপি ও হলুদ রঙের এই ফুলগুলো বৃষ্টির পানি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কুঁড়ি ছাড়ে। নার্সারি থেকে এর বাল্ব বা পেঁয়াজের মতো কন্দ এনে টবে রোপণ করলে মাত্র ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই ফুল ফুটতে শুরু করে।
যাঁরা খুব বেশি পরিচর্যা ছাড়াই দ্রুত ফুল চান, তাঁদের জন্য পর্তুলিকা সেরা পছন্দ। এটি লতানো জাতের হওয়ায় ঝুলন্ত টবে দারুণ দেখায়। ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শিকড় গজায় এবং ফুল ফুটতে শুরু করে। রোদ উজ্জ্বল বারান্দায় এর বৃদ্ধি হয় চোখে পড়ার মতো।
নয়নতারা চিরসবুজ এবং বারোমাসি ফুল হলেও বর্ষায় এর রূপ খোলে অন্যরকম। দেশি নয়নতারার পাশাপাশি এখন হরেক রঙের হাইব্রিড নয়নতারা পাওয়া যায়। টবে চারা লাগানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যেই গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, টবে যেন পানি জমে না থাকে।
সুগন্ধি ফুলের ভক্ত হলে বর্ষায় বারান্দার জন্য গন্ধরাজ বা থোকা টগর বেছে নিতে পারেন। বর্ষার আর্দ্রতায় এই গাছগুলোর বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয় এবং প্রচুর কুঁড়ি আসে। একটু বড় সাইজের টবে এই গাছের চারা লাগালে দ্রুতই বারান্দা সুবাসে মেতে উঠবে।
কামিনী ফুলও বর্ষায় দারুণভাবে ফোটে। এর মিষ্টি সুবাস পুরো ঘরকে সতেজ রাখে। নার্সারি থেকে কলমের চারা এনে লাগালে খুব দ্রুত ফুল পাওয়া সম্ভব।
মাটি প্রস্তুতকরণ: টবের মাটি যেন দোআঁশ ও ঝুরঝুরে হয়, যাতে পানি সহজেই নিষ্কাশিত হতে পারে। মাটিতে কিছুটা জৈব সার বা ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে দিলে গাছ দ্রুত পুষ্টি পায়।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: বর্ষায় গাছের গোড়ায় পানি জমা মানেই শিকড় পচে যাওয়া। তাই টবের নিচে অবশ্যই পর্যাপ্ত ছিদ্র রাখতে হবে।
আলো-বাতাসের ব্যবস্থা: গাছগুলোকে বারান্দার এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বৃষ্টির ছাঁট এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাওয়া যায়।
ছাঁটাই বা প্রুনিং: গাছের মরা ডাল বা ফুল শুকিয়ে গেলে তা কেটে দিন। এতে নতুন ডালপালা গজাবে এবং দ্বিগুণ ফুল ফুটবে।
আজই আপনার পছন্দের নার্সারি থেকে চারা এনে সাজিয়ে ফেলুন আপনার প্রিয় বারান্দাটি। প্রকৃতির এই বর্ষার ছোঁয়ায় আপনার গৃহকোণ হয়ে উঠুক আরও প্রাণবন্ত ও রঙিন।