শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

সচিবালয়ে এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরি


সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিবের (পিএস) ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলা থেকে ল্যাপটপটি চুরি হয়। এই ঘটনার পর দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

১০ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ 

সচিবালয়ে এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে  ল্যাপটপ চুরি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের ১৬ তলার একটি কক্ষ থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যবহৃত এইচপি (HP) ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি চুরি হয়।

ভুক্তভোগী মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে কর্মরত আছেন। উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ভবনের একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তরও অবস্থিত।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করেন তার পিএস ইমামুল হাফিজ। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পর নিজের কক্ষে ফিরে এসে তিনি দেখেন তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি আর নেই। জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই ভবনে বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষের বাইরে বেশ লোকসমাগম ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে চারদিকে তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চুরির ঘটনার পর নিরাপত্তা কর্মীরা ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই দপ্তর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তর এলাকায় যে কেউ সহজেই প্রবেশ করতে পারে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর অবাধ উপস্থিতির কারণে এখানে স্থায়ী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, লিফট থেকে নেমেই কোনো প্রকার নিরাপত্তা বলয় বা চেকিং ছাড়াই সরাসরি করিডোরে প্রবেশ করা যায়, যার ফলে দপ্তরগুলো কার্যত অরক্ষিত থাকে।

নিরাপত্তা জনবলের সংকটের কথা স্বীকার করে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, "ঘটনার পরপরই আমরা ভবনে উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। তবে আমাদের জনবল খুবই সীমিত। পুরো ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য কাজ করছেন। নিরাপত্তার চাহিদার তুলনায় এই জনবল অত্যন্ত কম। তারপরও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

এই চুরির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।