নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
১৩ জুন ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "আমাদের রাজনীতি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আমরা আগেই বলেছি, বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। আর সে কারণেই কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আবারও খালখনন কর্মসূচি শুরু করেছি।"
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী–মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার একটি আর্থিক সুবিধা দিতে চাই। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এই টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "গ্রাম-গঞ্জ মিলিয়ে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষই খেটে খাওয়া। আর আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। এই নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার প্রাথমিক ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। নারীরা যদি স্বাবলম্বী না হয়, তবে তারা পুরুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে না, আর নারী সমাজ পিছিয়ে থাকলে বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারবে না। সেজন্য নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের বিশেষ উপবৃত্তিও দেওয়া হবে।"
খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সুফল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খালটি খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে ঐতিহাসিক প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন, ১২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।
চলতি বাজেট ও দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, "সাধারণত প্রতিবার বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও, এবার তা বাড়েনি। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের কথা চিন্তা করে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে।"
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যে বাজেটে জনগণের উপকার করা হয়েছে, মদ ও সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, সেই বাজেট নিয়ে ও বিরোধী দল ঢালাও সমালোচনা করছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা।"
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যারা অতীতে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশের মানুষ তাদের সফল হতে দেয়নি এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের সমর্থন নিয়ে উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।