মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের


কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক ও যৌথ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর।

২২ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ 

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে মালয়েশিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’ কমপ্লেক্সে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরবর্তীতে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করা। আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী সমাজকে এই সুযোগগুলো অন্বেষণ করার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।"

সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবা ও মায়ের পূর্ববর্তী মালয়েশিয়া সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরের এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তাঁর সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে মজবুত করার পাশাপাশি শ্রমিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এছাড়া ১৯৯৩ সালে আমার মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করেছিল।"

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে সরকারপ্রধান বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও দুই দেশের জনগণের নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বৈঠকে আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।"

উভয় দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাড়াতে দুই নেতা ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের দুই দেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান তাঁদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে তাঁদের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে সংস্কৃতি, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী গবেষণা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এবং পুত্রাজায়া যৌথ সংবাদ সম্মেলন, ২২ জুন ২০২৬।