মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্য ইসির, ভোট হবে নির্দলীয় প্রতীকে


আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫০০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনে ব্যালট বাক্স ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত থাকলেও, এবার ভোটগ্রহণের ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কমিশন। রোববার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সভায় এসব বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

২৯ জুন ২০২৬, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ 

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্য ইসির, ভোট হবে নির্দলীয় প্রতীকে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আগামী অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনের জন্য ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকাসহ সব ধরনের সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সামগ্রিক ব্যয় কিছুটা কমানো যায় কি না, তা নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবছে এই সাংবিধানিক সংস্থাটি।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইসির এক অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য ধরে কাজ এগোচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ৪ হাজার ৫০০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোনটা আগে-পরে করা হবে, তা নিয়ে কমিশন অবহিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সমাজের প্রতিনিধিত্ব করায় নির্দলীয় নির্বাচনেও তাদের পরোক্ষ অংশগ্রহণ থাকবে। আর এই কারণেই স্থানীয় সরকারের পৃথক পাঁচ ধরনের নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালা ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মতামত দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অংশীজন ও সাংবাদিকদের মতামত পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এই নির্বাচন হওয়ায় ব্যালট বাক্সসহ সব নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটকেন্দ্র ও বুথের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটগ্রহণের দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছে কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ওয়েবসাইটটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নতুন এই ওয়েবসাইটের ফাংশনাল, সিকিউরিটি ও লোড টেস্টিং সম্পন্ন করতে আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইসির সিস্টেম ম্যানেজারের সভাপতিত্বে এই সভায় বুয়েটের প্রতিনিধি এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান 'রাইজআপ ল্যাবস'-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।