অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির
৭ জুলাই ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং আধুনিক সাইবার অপরাধ দমনের লক্ষ্যেই যুগোপযোগী এই বিলটি পাস করা হলো।
পাস হওয়া এই বিলের মাধ্যমে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর পুরোনো বিধান সংশোধন করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের নিত্যনতুন জালিয়াতি ঠেকাতে আইনটি যুগোপযোগী করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। নতুন আইনে সব অপরাধকে আমলযোগ্য (কগনিজেবল) করা হয়েছে; ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
সংশোধিত আইনে প্রথমবারের মতো 'ডিজিটাল কারসাজি'র আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ধারা অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার মতো অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের শাস্তি আরও কঠোর করতে আইনের বিদ্যমান ধারা সংশোধন করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রযুক্তির সহায়তায় নকল প্রতিরোধে পরীক্ষাকক্ষে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করলে বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন বিলে অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে কঠোর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহার করতে দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, পরীক্ষকদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান করে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, সৎ উদ্দেশ্যে অপরাধের তথ্য প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা থেকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার চমৎকার বিধান রাখা হয়েছে এই সংশোধনীতে।
এই আইনের অধীন অভিযুক্ত কোনো শিশুর (পরীক্ষার্থী) বিচার ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে (সামারি ট্রায়াল) এসব মামলার বিচার করবেন। আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।