বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এলপিজির সংকট নেই, মজুত করে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা


দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত রয়েছে, তাই কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে কেউ গ্যাস মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ 

এলপিজির সংকট নেই, মজুত করে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির আমদানি পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

জাহেদ উর রহমান বলেন,দেশে বর্তমানে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটরদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির ঘাটতি নেই। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহের মধ্যেও দেশের কিছু এলাকায় এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে কেউ পণ্য মজুত করছে কি না, তা সরকার নজরদারিতে রাখছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করে বাজারে অস্থিরতা বা জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও এলপিজির দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে বর্তমানে কিছুটা জল্পনামূলক প্রবণতা রয়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে। বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আগের তুলনায় দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি অনেকটাই কমে এসেছে এবং সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জ্বালানি ও শক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া অনলাইন নিরাপত্তা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব মোকাবিলার প্রসঙ্গে তিনি একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, কার্যকর আইন ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অনলাইনে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।