রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ


কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেতুটি নির্মিত হলে কয়া, শিলাইদহসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

১০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ 

গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট-বড় বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৭ অক্টোবর শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার কয়া, শিলাইদহ, চর সাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষকে দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নৌকাযোগে গড়াই নদী পার হতে হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে কয়া ইউনিয়নের সঙ্গে কুষ্টিয়া শহরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। এতে নদী পারাপারের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সেতুটির নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন, বাস্তবায়নকাল ও নির্মাণকাজ শুরুর সময় সম্পর্কে চিঠিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপের অগ্রগতি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।