মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয়-আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন নির্দেশনা


জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনে ব্যয় সংকোচন এবং সরকারি সময় ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব, ঐতিহ্যগত ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন ৩৯টি দিবস এবং বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস নির্ধারিত পদ্ধতিতে পালন করা হবে। অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান পরিহার, কর্মদিবসে শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা এবং একই ধরনের দিবস একসঙ্গে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ 

জাতীয়-আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন নির্দেশনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে ব্যয় কমানো এবং কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন নীতিমালা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে দিবস পালনের ধরন, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের ১৮টি দিবস ও উৎসব, ঐতিহ্যগত এবং পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ৩৯টি দিবস এবং বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস রয়েছে।

ঐতিহ্যগত ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের সম্পৃক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত পরিসরে পালন করতে হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এসব দিবস পালনে উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

অপ্রয়োজনীয় দিবস পালনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে। এসবের কোনো কোনোটি পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না। সরকারি সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের স্বার্থে এ ধরনের দিবস পালনে সরকারি সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিতে হবে। একইভাবে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের কর্মসূচিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। অনুমোদিত কর্মসূচির ভিত্তিতেই এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে।

সাজসজ্জা ও শোভাযাত্রায় থাকছে বিধিনিষেধ

জাতীয় পর্যায়ের দিবসগুলোর বাইরে সাধারণভাবে অন্যান্য দিবস পালনের ক্ষেত্রে আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে।

কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা আয়োজন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনো সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পর আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।

যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই, সেগুলো ছুটির দিন কিংবা কর্মদিবসে আয়োজন করা যাবে। এ ধরনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পতাকা উত্তোলন, ঘরোয়া আলোচনা সভা, গণমাধ্যমে আলোচনা এবং পত্রিকায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।

ঢাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী আনা নিরুৎসাহিত

দিবস বা সপ্তাহ পালনের জন্য রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় নিয়ে আসা যথাসম্ভব পরিহার করতে বলা হয়েছে। এতে যাতায়াত ও আয়োজনসংক্রান্ত ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয়কে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে একই তারিখে সমধর্মী দিবসগুলো একসঙ্গে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রস্তাব বা সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। নতুন নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো, দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা বজায় রেখেও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা, অপ্রয়োজনীয় আয়োজন কমানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার আরও কার্যকর করা।