রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: দুইজন গ্রেপ্তার, বাড়িতেই গোসল-খেজুর খেয়ে ইয়াবা সেবন
২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জোটের নেতারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
ব্রিফিংয়ে নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। ওইদিন রাজধানীতে জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।
জোটের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। লংমার্চে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে কর্মসূচি সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে।
১১ দলের প্রধান দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অন্যতম বলে জানান নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও দাবি করেন তারা।
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, কৃষকের সারসংকট এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তাদের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো জ্বালানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তারা।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন ১১ দলের নেতারা। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন কোনো ধরনের টালবাহানা না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তারা।
বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সমাধানও তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। এসব দাবি আদায়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচির সূচনা করবে ১১ দলীয় ঐক্য।