রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল


বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী। শনিবার দুপুরে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

৩ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ 

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী।

শনিবার দুপুর ১টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে বক্তারা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান তারা।

বিমানবন্দরের ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা একটি বিমানের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গেলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ নিয়ে আপত্তির পর দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা সুপারভাইজারের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগ্‌বিতণ্ডা ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি, মারধর ও বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।

জামায়াতের বক্তব্য

মামলার অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মামলা প্রত্যাহার এবং মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ অন্যান্য আলামত তদন্তের অংশ হিসেবে সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, ৩ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালত বিমানবন্দরের ঘটনায় করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা তার মুক্তি এবং মামলাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।