আজ পবিত্র হজ, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা
২৮ মে ২০২৬, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের সঙ্গে পবিত্র হজের একটি গভীর সংযোগ রয়েছে; গত মঙ্গলবারই মক্কার আরাফাত প্রান্তরে লাখ লাখ হাজি হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। আজ ঈদের প্রধান জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নামে পশু জবাই বা কোরবানি করার মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল পর্ব সম্পন্ন করছেন।
ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে সরকারি ছুটি চলছে এবং ইতোমধ্যে লাখো মানুষ রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ থাকলেও এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছিল। এছাড়া বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টা, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টা ও ফজলুল হক মুসলিম হল মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপত্তা ও দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। পবিত্র এই দিনে দেশবাসীর প্রতি সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিরা।