শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
ইতিহাস গড়লেন •

মাত্র তৃতীয় টেস্টেই ডাবল সেঞ্চুরি, হৃদয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি


সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ৩০৪ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করেন তিনি। তার দুর্দান্ত ইনিংসে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

৭ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ 

মাত্র তৃতীয় টেস্টেই ডাবল সেঞ্চুরি, হৃদয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই যেন প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন তাওহিদ হৃদয়। একের পর এক সতীর্থ সাজঘরে ফিরলেও দমে যাননি এই ডানহাতি ব্যাটার। লোয়ার অর্ডারের তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই গড়েছেন অসাধারণ এক কীর্তি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে চা-বিরতির আগে হৃদয়ের নামের পাশে জমা হয় ১৯০ রান। অন্যপ্রান্তে ছিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম চোটে পড়ায় বাংলাদেশের হাতে কার্যত শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ছিলেন তাসকিন। এমন পরিস্থিতিতেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন হৃদয়।

তাসকিনকে সঙ্গী করে ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৩০৪ বলে পৌঁছে যান ২০০ রানের মাইলফলকে। হৃদয়ের এই ইনিংসেই নতুন করে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখছে বাংলাদেশ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের তুলনায় এখনো ২৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১১৭ রানের মূল্যবান জুটি। তবে ব্যক্তিগত ২২ রানে তাইজুলকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে এই জুটি ভাঙেন জোমেল ওয়ারিকেন। ফলে ৩০১ রানেই অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এর আগে দিনের শুরুতেই মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মুশফিক ৩৪ রান করে ওয়ারিকেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মাত্র ৮ রান করে একই বোলারের শিকার হন লিটন।

দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ১৬ রানে থেমে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের ইনিংস। পরে হাসান মাহমুদও কোনো রান না করেই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। একের পর এক উইকেট হারানোর মাঝেও ব্যতিক্রম ছিলেন হৃদয়।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২৬৮ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। ২২ রানেই হারায় দুই উইকেট।

চোটের কারণে সাদমান ইসলাম না থাকায় ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান ৫ রান করে ফেরেন। এরপর কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে ১৬ রানে থামে তানজিদ হাসান তামিমের ইনিংস। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দলের হাল ধরতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।

সব মিলিয়ে একদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়, অন্যদিকে হৃদয়ের ব্যাটে অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। সিলেট টেস্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে তাওহিদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি।