শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুও’


টিম কুকের পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই বড় ধরনের চমক দিলেন জন টার্নাস। বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুও’ উন্মোচন করেন। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় এমন এই ফোনটির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ 

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুও’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই আইফোনে গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম বড় পরিবর্তন সামনে এনেছেন। টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসা টার্নাস বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেন।

নতুন এই ফোল্ডেবল আইফোনের নাম ‘ডুও’। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় ফোনটি এখন পর্যন্ত অ্যাপলের সবচেয়ে বড় আইফোন সংস্করণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হলেও সর্বোচ্চ দাম ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এটি শুধু আইফোন নয়, বাজারের অন্যতম দামি স্মার্টফোন হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।

টার্নাস জানান, ডুও তৈরিতে আইপ্যাড থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। ফোনটির ভাঁজ করার প্রযুক্তিকে তিনি ‘সাবলীল এবং সম্পূর্ণ স্বজ্ঞাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ কয়েক বছর ধরেই চলছিল। পুরোপুরি খুললে ডুও দেখতে অনেকটা ছোট আকারের আইপ্যাডের মতো। আর মাঝখান থেকে ভাঁজ করলে এটি প্রশস্ত আকৃতির আইফোনে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে টার্নাস বলেন, বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের মতো দেখতে বা অনুভূতিতে ডুওকে তৈরি করতে চায়নি অ্যাপল। তার মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী ডিভাইসগুলো অনেক সময় দুটি ফোন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার মতো মনে হয়, যার ফলে বড় স্ক্রিনটিও তুলনামূলক ছোট দেখায়।

অ্যাপলের নতুন এই ফোন সম্পর্কে টার্নাস বলেন, ডুও ‘ধারাবাহিক কিছু অসাধারণ উদ্ভাবনের ফল’, যা ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

ফোল্ডেবল আইফোন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন টার্নাস। চলতি বছরের শুরুতে টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডিএম সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড মনে করেন, টার্নাসকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী করার সময়টি সম্ভবত পরিকল্পিতভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারণ, তার মতে, এই পদোন্নতি সম্ভবত বিগত বহু বছরের মধ্যে অন্যতম বড় আইফোন উন্মোচনের সঙ্গে মিলেছে।

উডের ভাষায়, ‘অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না।’ বুধবারের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাসকে যেভাবে সামনে আনা হয়েছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি। তার কাছে মনে হয়েছে, টার্নাসকে দেখে যেন মনে হচ্ছিল ‘তিনি নিজেই একটি পণ্য’।

২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর অ্যাপল নতুন কোনো বড় ধরনের সাফল্য বা যুগান্তকারী উদ্ভাবন দেখাতে পারেনি- এমন সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন ফোল্ডেবল নকশা সেই সমালোচনার কিছুটা জবাব দিতে পারে। তবে এত উচ্চমূল্যের ফোল্ডেবল আইফোন অ্যাপলের জন্য বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, ফোল্ডেবল ফোনটি অ্যাপলের পণ্য তালিকায় একটি উচ্চমূল্যের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়লেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নাও আসতে পারে।

এর আগে নতুন আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার। বুধবার অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মডেল দুটির দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। তবে ফোল্ডেবল আইফোনের জনপ্রিয়তার পথে আরেকটি বড় বাধা হতে পারে প্রচলিত আইফোন ব্যবহারে মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। নতুন ধরনের ডিভাইসে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার ও নতুন ব্যবহারের পদ্ধতি শিখতে সময় লাগতে পারে।

বিষয়টি তুলে ধরে ক্যারোলিনা মিলানেসি বলেন, ফোল্ডেবল ফোনগুলো আকর্ষণীয় ডিভাইস এবং অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী। তবে প্রচলিত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ও নতুন ব্যবহারের পদ্ধতি শেখার বিষয়টি বেশ কঠিন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি