সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফৌজদারি মামলায় হুয়াওয়ে


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যেই এবার দেশটির আদালতে ঐতিহাসিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, দুই দশক ধরে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি চুরি, ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ 

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফৌজদারি মামলায় হুয়াওয়ে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যেই দেশটির আদালতে ঐতিহাসিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে এই বিচারকাজ চলার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রসিকিউটররা আদালতে হুয়াওয়েকে একটি অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের অভিযোগ, গত দুই দশক ধরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি চুরি, ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন কোম্পানির সোর্স কোড এবং রোবোটিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গোপনীয় ট্রেড সিক্রেট চুরি। এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানে ব্যবসা পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেন গোপন করার অভিযোগও রয়েছে।

মার্কিন প্রসিকিউটররা আরও দাবি করেছেন, ২০০৯ সালে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় দেশটির কর্তৃপক্ষকে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারিতে সহায়তা করেছিল হুয়াওয়ে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাধারণ ব্যবসায়িক বিরোধ এবং কয়েকজন কর্মীর ব্যক্তিগত ভুলকে পুরো কোম্পানির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে মার্কিন সরকার।

হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তাদের কর্মকাণ্ড অপরাধমূলক নয়; বরং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের অংশ। এদিকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং সবসময় পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। টেলিকম ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির বিরোধ ছাড়িয়ে এই দ্বন্দ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতেও বিস্তৃত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র উন্নত প্রযুক্তির চিপ চীনে সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে এই বিচার শুরু হওয়ায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।