আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম: অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনে লিটারে বাড়ল ৫ টাকা,
৩ জুন ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
গত এপ্রিলে কৃত্রিম স্বস্তির পর মে মাসে এসে আবারও বড় ধাক্কা খেল দেশের রপ্তানি খাত। মে মাসে পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ কমে ৪৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে দেশে গড়ে ৪৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।
ইপিবির উপাত্ত অনুযায়ী, কেবল একক মাসই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) সার্বিক রপ্তানি আয়ও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশের মতো কমে গেছে।
এর আগে টানা আট মাস আয় কমার পর গত এপ্রিলে রপ্তানি আয় এক লাফে ৩৩ শতাংশ বাড়ার খবর এসেছিল। তবে বিশ্লেষকরা তখনই জানিয়েছিলেন, সেই বৃদ্ধি স্বাভাবিক বা প্রকৃত ছিল না। মূলত আগের বছরের (গত বছরের) এপ্রিল মাসের ‘দুর্বল ভিত্তি’ (Weak Base)-র কারণে গত এপ্রিলে আয় কাগজে-কলমে বেশি মনে হয়েছিল।
গত বছরের এপ্রিল মাসে রোজার ঈদের কারণে টানা ১০ দিনের ছুটি ছিল এবং একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছিল। এই দুই কারণে সে সময় রপ্তানি আয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ছিল। সেই দুর্বল মাসটিকে ভিত্তি ধরে তুলনা করায় গত এপ্রিলের রপ্তানি আয়কে অনেক বড় মনে হয়েছিল, যদিও প্রকৃতপক্ষে ওই মাসেও রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০০ কোটি ডলার-যা গড় আয়ের চেয়ে কম।
ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ১১ মাসে দেশে মোট রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের মতো। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী হিসাবেও দেশের রপ্তানি খাত ৩ শতাংশের মতো পিছিয়ে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারের মন্দা পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানি খাতে এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।